সংক্ষিপ্ত বিবরণ: রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম ও বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন বড় ঘোষণা— ‘যুবশক্তি প্রকল্প’ (Yuva Shakti Scheme)। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য প্রার্থীরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক অনুদান পাবেন। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের নতুন ‘যুবশক্তি প্রকল্প’-এর মাধ্যমে কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পুজোর আগেই এই প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করে অক্টোবর থেকেই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
যুবশক্তি প্রকল্পের মূল সুযোগ-সুবিধা ও রূপরেখা
| প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য | সরকারি নির্দেশিকা ও বিবরণ |
|---|---|
| মাসিক ভাতার পরিমাণ | প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা |
| টাকা প্রদানের সময়সীমা | আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকে সরাসরি ডিবিটি (DBT) মারফত |
| বয়সসীমা | ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ বা সমতুল্য যোগ্যতা |
কারা আবেদন করতে পারবেন (Eligibility Criteria)?
- স্থায়ী বাসিন্দা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- কর্মসংস্থানহীন অবস্থা: আবেদনকারী কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়ী চাকরিতে কর্মরত হতে পারবেন না।
- পারিবারিক আয়: পরিবারের বার্ষিক আয় নির্ধারিত আর্থিক সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
- একক সুবিধা: পরিবারের কোনো একজন যোগ্য সদস্য এই প্রকল্পের অধীনে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হবেন।
আবেদনের জন্য কী কী ডকুমেন্টস লাগবে (Required Documents)?
আবেদনপত্র যাচাই ও ভেরিফিকেশন সফল করতে নিচের নথিপত্রগুলি প্রস্তুত রাখা আবশ্যক:
- পরিচয়পত্র: আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডের স্বপ্রত্যয়িত জেরক্স কপি।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ: মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে) এবং সর্বোচ্চ যোগ্যতার মার্কশিট।
- আয়ের শংসাপত্র: পঞ্চায়েত প্রধান, পৌরসভা বা মহকুমা শাসক (BDO/SDO)-এর ইস্যু করা পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিবিটি স্ট্যাটাস: আবেদনকারীর নিজস্ব সক্রিয় ব্যাংক পাসবই। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক ও NPCI DBT সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।
- ছবি ও মোবাইল নম্বর: সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং আধার লিঙ্কযুক্ত মোবাইল নম্বর।
উপসংহার ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
যে সমস্ত আবেদনকারী এখনও পর্যন্ত ব্যাংকে আধার ও এনপিসিআই ডিবিটি (NPCI Direct Benefit Transfer) সক্রিয় করেননি, তারা দ্রুত নিকটবর্তী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তা সম্পূর্ণ করে নিন। কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্ররোচনায় পা না দিয়ে রাজ্য সরকারের অফিশিয়াল পোর্টাল অথবা ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ ক্যাম্পের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

